Posts

দাসত্বের জীবন

কল্পনা করুন তো আপনি কোথাও খাঁচায় বন্দী আছেন… এমন একটা জায়গা যেখানে আপনাকে আরোপিত সব নিয়মকানুন কঠোরভাবে মেনে চলতে হয় কিন্তু আপনি বাক স্বাধীনতা তো দূরের কথা আপনার অধিকারটুকুও দাবি করতে পারেন না, যেখানে আপনার উপর যতই আঘাত আসুক, যতই নির্যাতন হোক না কেন আপনি কোন অভিযোগ করতে পারবেন না, যেখানে সামাজিক ন্যায়বিচারের দাবি করাটা একটা অপরাধ, যেখানে ভুলকে ভুল বা ফুলকে ফুল বলাটাও শাস্তিযোগ্য অপরাধ, এমনকি আপনার বিচারের প্রহসনে আপনার মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। মনে করুন তো, এমন একটা জায়গায় বাস করেন যেখানে প্রতি সকালে ঘরের বাইরে পা রাখার পর থেকেই যেকোনো সময় আপনার উপর নেমে আসতে পারে সম্ভাব্য আঘাত, আপনার বাড়ি অথবা পরিবারের সদস্য যখন তখন আক্রমণের শিকার হতে পারে। চিন্তা করুন তো এমন এমন একটা জায়গায় আপনি বাস করেন যেখানে রাতের বেলা যেকোনো সময় আক্রান্ত হতে পারেন আশঙ্কায় আপনি নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারেন না, অথবা কেউ কোন যুক্তিসঙ্গত কারণ আপনার বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দিলো, যেখানে আপনার তার স্কুলে প্রতিদিনই কোন না কোন সমস্যায় জর্জরিত, যেখানে আপনি কিছু নির্দিষ্ট মানুষকে সম্মান করতে বাধ্য, অথবা কোন সামাজিক রী...

জীবন রহস্যময় !

মনে করেন আপনি জন্ম নেন নাই। যেহেতু নিজের জন্মের উপর আপনার কোন হাত নাই । সেহেতু সে ক্রেডিট আপনি নিতে পারেন না। তো জন্ম না নিলে কি হতো , সেই রকম চিন্তা করেন। জন্ম না নিলে কোন কিছুই আপনাকে স্পর্ষ করতো না। ওজন স্তর ফুটো হচ্ছে ভেবে আপনি আপনার ওজন বাড়াতেন না। মনে করেন আপনি জন্ম নিয়েছেন । আমার মতো নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে না। উচ্চবিত্ত পরিবারে । ধরেন প্রধানমন্ত্রির ঘরে। সে ক্রেডিটও কিন্তু আপনার না। উচ্চবিত্ত পরিবারে জন্ম নেয়ার ফলে আপনি যে সুবিধা পাচ্ছেন তার কোন কিছুই আপনার না। যে বস্তিতে জন্মালো । সেখানে জন্মানোর ফলে যে দুর্ভোগ ভোগ করতে হচ্ছে। সে দায়ভারও তার না। ধরনে আপনি যে কোন পরিবারেই জন্ম নিয়েছেন। ছোটকালে আপনার উপর যেহেতু আপনার কোন নিয়ন্ত্র থাকে না সেহেতু আপনার আব্বা আপনাকে এক সকালে ধরে মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়ে দিলো। এবং সারা জীবনের জন্য আপনার চিন্তার প্যাটার্ন চেইঞ্জ হয়ে গেলো । আপনি ধরে নিলেন, ইহায় সত্য, ইহায় জীবন। ধরেন আপনাকে ইংলিশ মিডিয়ামে ভর্তি করিয়ে দেয়া হলো। আপনার চিন্তা অন্য স্রোতে প্রবাহিত হলো। আপনিও মনে করলেন ইহায় সত্য। ধরেন আপনি বাংলাদেশে না জন্মিয়ে আমেরিকায় জন্ম গ্...

উলটো স্রোতের ভাষণ!

ইদানীং ভাইরালের যুগ। আমার দুর্ভাগ্য এই যে, বহু কিছু ভাইরাল হয় কিন্তু আমার জানাই হয় না। স্থূল-সস্তা বিষয় যারা সামাজিক মাধ্যমে ছড়ায়, ডানপন্থা-ভিত্তিক আদর্শের যারা ঠিকাদার, আমিন বলে যাবেন না -টাইপ কথাবার্তা যারা বলে তাদের প্রায় অধিকাংশকেই আনফলো করা। আমার আত্মরম্ভিতা থেকে একথা বলছি না, এটা আমি করি নিজে সুস্থ থাকতে। এতকিছুর পরও কদিন হলো নাকি এক রসালো ভিডিও ফেসবুক নামক সিনেমা হলে চলছে। ভাগ্য দেবতা আমার প্রতি তার করুণার হাত প্রসারিত করতে কার্পণ্য করায় সেটি আমাকে জানতে হল আকারে ইঙ্গিতে লেখা কতিপয় কিছু ফেসবুক বন্ধুর পোষ্ট থেকে। সুললিত কারুকার্যময় ভাষায় বন্ধুদের সেসব লেখার পাঠোদ্ধার করতে নেহায়েত কম ঝক্কি যায়নি আমার উপর দিয়ে।  আমার নিজস্ব নির্বুদ্ধিতা আর অপরিপক্বতার দরুণ এ যুগের বহুকিছু জানতে না পারলেও, রোহিঙ্গাদের নিয়ে সাম্প্রতিক একটা লেখাও চোখ এড়ায়নি। এর কারণ, যে মানুষদের মানবতাবাদী হিসেবে জানি, যাদের চিনি উদারপন্থী অসাম্প্রদায়িক মানুষ হিসেবে, যাদের লেখা পড়ে ঋদ্ধ হতে চেষ্টা করি, তারা পর্যন্ত পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে নির্যাতিত নিপীড়িত বঞ্চিত শোষিত, সভ্যতার বল্গাহীন অশ্লীল ...

সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই

অর্গানাইজড রিলিজিয়নের মতো উগ্র জাতীয়তাবাদও প্রচন্ড ভয়ঙ্কর। যদি তর্কের খাতিরে ধরেও নিই যে, অধিকাংশ মানুষই আর প্রচলিত ধর্মে বিশ্বাসী থাকলো না (বর্তমান পৃথিবীতে ২০ থেকে ৩০ ভাগ মানুষ নাকি আর কোনো প্রচলিত ধর্মে বিশ্বাসী নয়), তবুও কি পৃথিবী থেকে হিংসার উন্মত্ততা থামবে?  ইতিহাস থেকে যতটুকু জানা যায় যে, প্রবল জাতীয়তাবাদ এবং আধিপত্যবাদের কারণে এ পৃথিবীতে যতো মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, ধর্মীয় হিংস্রতার কারণে ততো হারায়নি। একমাত্র প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে কোটি কোটি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, তার পেছনের কারণ উগ্র জাতীয়তাবাদ ও প্রবল আধিপত্যবাদ। তাই ব’লে ধর্মীয় বিভেদের কারণে যে কম মানুষ মরেছে সেটা কিন্তু নয়। ভারতীয় উপমহাদেশের মানুষ ধর্মীয় সম্প্রসারণবাদের বলী হয়েছে সবচেয়ে বেশী। ১৯৪৭ সালের দেশবিভাগ কিংবা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে এই বাংলাদেশেরই লাখ-লাখ মানুষ ধর্মীয় বিভাজনের জন্য প্রাণ হারিয়েছেন। সে ক্ষতচিহ্ন এখনও বাংলার অসংখ্য মানুষ বহে বেড়াচ্ছে। অতি সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে এক উগ্র শ্বেতাংগ জাতীয়তাবাদী পবিত্র মসজিদে নামাজরত নিরীহ মানুষকে যে ...

থটস আর অনলি থটস নট ফ্যাক্টস

আজকের লেখার প্রসঙ্গ হল চিন্তা এবং নিজেকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি। আপনি আয়নায় দাঁড়িয়ে যদি দেখেন একটা মোটা কিংবা কালো মুখে কালচে দাগ, কিংবা চোখের নিচে কালি পড়া একটা কুৎসিত মানুষ তবে এই লেখা আপনার জন্য। সাইকোলজিতে একটা কথা আছে ‘ থটস আর অনলি থটস নট ফ্যাক্টস” । এর মানে হল , চিন্তা বিষয়টা মস্তিষ্কের নিউরোনগুলোর তড়িৎরাসায়নিক সংকেতগুলো ছাড়া আসলে আর কিছু না। চিন্তা মানেই বিষয়টা সত্যি এমন না, আর এই চিন্তা নিয়ন্ত্রিত হয় বলে আমরা যা দেখি তা আসলে সত্যি না। আজকের বিষয় মিডিয়া ম্যানুপুলেশন না।কিন্তু এর সাথে মিডিয়া ম্যানুপুলেশন জড়িত বলে প্রথমে মিডিয়া ম্যানুপুলেশন নিয়ে আলোচনা করা জরুরী । মিডিয়া ম্যানুপুলেশন সাথে হয়ত অনেকেই পরিচিত, সহজ করে বললে, এর মানে হল আমাদের চিন্তা এবং মন এই মিডিয়া দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় কিংবা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। উদাহরণ দেই, এই যে মেয়েদের শরীরের এর শেপ ৩৬-২৪-৩৬ হলে সেটা পারফেক্ট বডি, এই কনসেপ্ট আপনি অবশ্যই জানেন, কিন্তু আপনি কিভাবে জানেন? আপনার মাথায় কি করে এল,কে এই মিজারমেন্ট করল আর কেন করল সেটা ভেবেছেন? উত্তর দিচ্ছি, তার আগেএকটু ইতিহাস এর দিকে তাকাই, এই না...

রোহিঙ্গা সমস্যা: গ্যাঁড়াকলে বাংলাদেশ!

@মনজুর মুরশেদ দীর্ঘদিন ধরে চলমান রোহিঙ্গা সমস্যার ব্যাপকতা এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশী; অথচ কেবল মিয়ানমার আর তাদের অল্পকিছু মিত্র দেশ ছাড়া আর কারও সন্দেহ নেই যে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেয়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। যারা দেশভাগের বহু আগে থেকেই কয়েক পুরুষ ধরে মিয়ানমারে বাস করে আসছে তারা কোন অবস্থাতেই বাংলাদেশী নয়। ব্রিটিশ আমলে আফ্রিকার দেশগুলোতে অভিবাসী হওয়া ভারতীয়রা যেমন আর ভারতীয় নাগরিক নয়, তেমনি রোহিঙ্গারা অবিভক্ত ভারত থেকে বার্মায় গিয়ে থাকলেও তাদের আর উপমহাদেশের কোন দেশের নাগরিক হিসাবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। মিয়ানমারের সামরিকজান্তা বহুদিন ধরে গণতন্ত্রকামী নেত্রী সু চিকে গৃহবন্দী করা রাখার পর আন্তর্জাতিক চাপে পড়ে তাঁকে দেশ শাসনে সম্পৃক্ত করেছে। তবে শাসন আঙ্গিকে কিছু পরিবর্তন হলেও রোহিঙ্গা নির্মূলের ছক ও তা বাস্তবায়নের ধারায় কোন পরিবর্তন আসে নি। এমন কি শান্তিতে নোবেল জয়ী সু চিকে আগে রোহিঙ্গাদের প্রতি সহানুভূতিশীল মনে হলেও আমরা এখন তাঁর ভিন্ন চরিত্র দেখছি। স্বেচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায় হোক তিনি এখন কেবল সামরিক নেতৃত্বের ‘শিখণ্ডী’ মাত্র। বাইরে শান্ত-সমাহিত...

ফেইসবুক, ভুয়া খবর, এবং রাজনৈতিক সামাজিক বিপর্যয়

১ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসমূহ বিশেষ করে ফেইসবুক, টুইটার ইত্যাদি এখন আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলা চলে। ফেইসবুকের মাধ্যমে অনেকদিন আগের কোনো বন্ধু কিংবা আত্মীয়কে খুঁজে পাওয়া কিংবা নতুন কারো সাথে যোগাযোগ স্থাপন করা আমাদের অনেকের ক্ষেত্রে ঘটেছে, ফেইসবুকের মাধ্যমে তথ্যের আদানপ্রদান, খবর পাওয়া ইত্যাদি কিংবা অনেকে ফেইসবুকের মাধ্যমে বাণিজ্য প্রসার করছেন; এইসব ইতিবাচক দিক ছাড়াও ফেইসবুকের কিছু নেতিবাচক দিক আছে, বিশেষ করে সাম্প্রতিককালে বেশ আলোচিত ব্যাপার হচ্ছে ফেইসবুকে গুজব ও ভুয়া খবরের ছড়াছড়ি এবং তা কীভাবে আমাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে বিপর্যয়ের কারণ হচ্ছে।  আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক নির্বাচনে ফেইসবুকের ভুয়া খবর বিশেষ প্রভাব রেখেছে। এইসব ভুয়া খবরে জনমত ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। যেমন,  বার্তাসংস্থা বাজফিড নিউজের মতে  নির্বাচনের আগের শেষ তিন মাসে ২০-টি “সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়” ভুয়া খবরের সাইটগুলোর খবর শেয়ার করা, সেগুলোতে মন্তব্য করা, প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে প্রায় ৮.৭ মিলিয়ন বার, অথচ নিউ ইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট ইত্যাদি সহ নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্...