Posts

রোহিঙ্গা সমস্যা: গ্যাঁড়াকলে বাংলাদেশ!

@মনজুর মুরশেদ দীর্ঘদিন ধরে চলমান রোহিঙ্গা সমস্যার ব্যাপকতা এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশী; অথচ কেবল মিয়ানমার আর তাদের অল্পকিছু মিত্র দেশ ছাড়া আর কারও সন্দেহ নেই যে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেয়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। যারা দেশভাগের বহু আগে থেকেই কয়েক পুরুষ ধরে মিয়ানমারে বাস করে আসছে তারা কোন অবস্থাতেই বাংলাদেশী নয়। ব্রিটিশ আমলে আফ্রিকার দেশগুলোতে অভিবাসী হওয়া ভারতীয়রা যেমন আর ভারতীয় নাগরিক নয়, তেমনি রোহিঙ্গারা অবিভক্ত ভারত থেকে বার্মায় গিয়ে থাকলেও তাদের আর উপমহাদেশের কোন দেশের নাগরিক হিসাবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। মিয়ানমারের সামরিকজান্তা বহুদিন ধরে গণতন্ত্রকামী নেত্রী সু চিকে গৃহবন্দী করা রাখার পর আন্তর্জাতিক চাপে পড়ে তাঁকে দেশ শাসনে সম্পৃক্ত করেছে। তবে শাসন আঙ্গিকে কিছু পরিবর্তন হলেও রোহিঙ্গা নির্মূলের ছক ও তা বাস্তবায়নের ধারায় কোন পরিবর্তন আসে নি। এমন কি শান্তিতে নোবেল জয়ী সু চিকে আগে রোহিঙ্গাদের প্রতি সহানুভূতিশীল মনে হলেও আমরা এখন তাঁর ভিন্ন চরিত্র দেখছি। স্বেচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায় হোক তিনি এখন কেবল সামরিক নেতৃত্বের ‘শিখণ্ডী’ মাত্র। বাইরে শান্ত-সমাহিত...

ফেইসবুক, ভুয়া খবর, এবং রাজনৈতিক সামাজিক বিপর্যয়

১ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসমূহ বিশেষ করে ফেইসবুক, টুইটার ইত্যাদি এখন আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলা চলে। ফেইসবুকের মাধ্যমে অনেকদিন আগের কোনো বন্ধু কিংবা আত্মীয়কে খুঁজে পাওয়া কিংবা নতুন কারো সাথে যোগাযোগ স্থাপন করা আমাদের অনেকের ক্ষেত্রে ঘটেছে, ফেইসবুকের মাধ্যমে তথ্যের আদানপ্রদান, খবর পাওয়া ইত্যাদি কিংবা অনেকে ফেইসবুকের মাধ্যমে বাণিজ্য প্রসার করছেন; এইসব ইতিবাচক দিক ছাড়াও ফেইসবুকের কিছু নেতিবাচক দিক আছে, বিশেষ করে সাম্প্রতিককালে বেশ আলোচিত ব্যাপার হচ্ছে ফেইসবুকে গুজব ও ভুয়া খবরের ছড়াছড়ি এবং তা কীভাবে আমাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে বিপর্যয়ের কারণ হচ্ছে।  আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক নির্বাচনে ফেইসবুকের ভুয়া খবর বিশেষ প্রভাব রেখেছে। এইসব ভুয়া খবরে জনমত ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। যেমন,  বার্তাসংস্থা বাজফিড নিউজের মতে  নির্বাচনের আগের শেষ তিন মাসে ২০-টি “সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়” ভুয়া খবরের সাইটগুলোর খবর শেয়ার করা, সেগুলোতে মন্তব্য করা, প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে প্রায় ৮.৭ মিলিয়ন বার, অথচ নিউ ইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট ইত্যাদি সহ নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্...

উন্নয়নের রথযাত্রায় বিপন্ন স্বদেশ !

উন্নয়নের প্রচণ্ড ডামাডোল বাজছে চতুর্দিকে। দেশের শাসকগোষ্ঠী তারস্বরে ঘোষণা করছেন আমাদের দেশ সহসা নাকি শুধু এশিয়ার নয়, বিশ্বের রোল মডেল হতে যাচ্ছে। আমরা নাকি সহসা কানাডা, ফ্রান্সকেও ছাড়িয়ে যাব। আমাদের দেশ এখন ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তরিত হয়েছে। ব্যাংক বীমা অফিস আদালতে আমরা দেদারসে ইন্টারনেট, কম্পিউটার,ব্যবহার করছি। হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে আমরা মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট নিক্ষেপ করেছি। আমাদের বার্ষিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শণৈঃ শণৈঃ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের দু’লাইনের মহাসড়ক চার লাইন হচ্ছে, বিশ্বব্যাংকের সহায়তা ছাড়াই পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ দ্রুত্ গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া ছোট বড় অনেক নদ-নদীর উপর কত সেতু নির্মিত হচ্ছে-মেঘনা গোমতি ইত্যাদি। শহর-নগর ছেয়ে যাচ্ছে উড়াল সেতুতে। রক্তদিয়ে কেনা স্বদেশের এহেন সাফল্যের ফিরিস্তি দেখে, একাত্তুরের একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে গর্বে বুক ফুলে ওঠারইতো কথা। সত্যইতো, এসব উন্নয়নতো হচ্ছেই একথা ভাবার পরক্ষণেই কিন্তু মনটা প্রচণ্ড বিষন্নতায় আচ্ছন্ন হয়ে ওঠে, যখন শুনতে পাই-আমাদের দেশের শ’য়ে শ’য়ে কর্মপ্রত্যাশী বেকার তরুণেরা, ভূমধ্যসাগরের নীলাভ...

এত জাত-ফাত, ছুঁৎ-অচ্ছুৎ, ফর্সা-কালো, ধর্ম-অধর্মের ভেদাভেদ করে লাভটা কী হল?

এত জাতপাত, ব্রাহ্মণ-শূদ্র ছুঁৎ-অচ্ছুৎ, কে গরু খায় আর কে শুয়োর, কে ফর্সা, কে কালো, কে পৈতা পরে আর কে টুপি – এ নিয়ে নিরন্তর মারামারি, কাটাকাটি, দাঙ্গাদাঙ্গির পরে দিনশেষে কী জানা গেল? নাহ আমরা নাকি মূলত তিন ঐতিহাসিক গোষ্ঠীর শঙ্কর – যেভাবেই কড়ি গুনি না কেন, আমাদের জিনের ‘ষোল আনা’র বেশীরভাগই ভরেছে এই তিন দলের আনা-আনা অবদানে। কেউ কম, কেউ বেশী; অঞ্চলের উপর ভিত্তি করে কেউ এর সাথে মিশ খেয়েছে বেশী, কেউ বা ওর সাথে। আমাদের, অর্থাৎ আজকের বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানের মত দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর অধিবাসীদের উদ্ভব ঘটেছে এই তিন জনগোষ্ঠীর মিলনের ফলে – ৫০ থেকে ৭০ হাজার বছর আগে আফ্রিকা থেকে বেরিয়ে এসে ভারতে বসতিস্থাপনকারী প্রাচীন শিকারি-সংগ্রাহক গোষ্ঠী, খ্রিস্টপূর্ব ৫-৭ হাজার বছর আগে পারস্য থেকে আসা ‘চাষাভুষা’ মানুষ আর তারপর খ্রিস্টপূর্ব ১-২ হাজার বছর আগে আফগানিস্তানের উত্তর থেকে আসা ‘পশুপালকদের’ দল। যাক বাবা, আমার ছোটবেলার পাড়ার খালাম্মাদের একটা প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেল এতদিনে, এত বড় বড় গবেষকদের কাজের ফলে! ওনাদের সেই হাহাকার, ‘আহারে আপা আপনার দুইটা মেয়ে কী সুন্দর ফর্সা, বড়টা কালো হইল ক্যাম...

শেষ নাই যার

আমি ব্যাকরণবিদ নই। তবু ধারণা করি, জ্ঞাত হওয়া থেকে জ্ঞান শব্দের উৎপত্তি হয়েছে। কোন কিছু জানাকে জ্ঞান বলে। সেটা ভাল হোক বা মন্দ হোক, সবই জ্ঞান। ব্যবহারিক পরিমণ্ডলে ভাল-মন্দের হিসাব নিকাশ আসে। জ্ঞান ভাল-মন্দ নিরপেক্ষ। কিভাবে এই জ্ঞানের জন্ম হয়? একজন দার্শনিক বা এপিষ্টেমোলজিস্ট তার জ্ঞানগর্ভ তত্ত্বালোচনার মাধ্যমে এই প্রশ্নের জবাব দিতে পারবেন। আমি দার্শনিকও নই। আমি এই প্রশ্নের জবাব দেবার চেষ্টা করবো নিজস্ব পঠন, অধ্যয়ন, চিন্তন ও অভিজ্ঞতার আলোকে। প্রকৃতি অসীম তথ্যের আধার। মানুষ যখন সেই তথ্যসমূহ নিজেদের জন্যে আহরণ করে কেবল তখনই তা জ্ঞানে পরিণত হয়। তারমানে সেই অর্থে প্রকৃতি জ্ঞানী নয়, শুধুমাত্র তথ্যের আধার। স্বাভাবিকভাবেই মনে প্রশ্ন আসতে পারে, মানুষ কখন প্রকৃতির তথ্যভাণ্ডার থেকে তথ্য আহরণ করে বা জ্ঞান আহরণ করে? মানুষের মস্তিষ্কে প্রকৃতি এমন কিছু বৈশিষ্ট্যের সন্নিবেশ ঘটিয়েছে, যার ফলে তাকে জ্ঞান আহরণ করা লাগে। মানুষের কৌতূহল, প্রয়োজন ও প্যাশান বা প্রেমই হলো সেইসব প্রকৃতি প্রদত্ত গুণপনা, যার কারণে সে জ্ঞানার্জনে সক্রিয় হয়। শুধু জ্ঞান অর্জন করলে বা কাঁচা তথ্য সংগ্রহ করলেই তা কাজের উপয...

গোল্ডেনের চাপে আমাদের শিশুরা

Image
লিখেছেন: এম এম মেহেরুল ছেলেমেয়েদের, বিশেষত শিশু, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে অধ্যয়নরতদের জন্য স্কুলব্যাগ নিয়ে স্কুলে যাওয়া আনন্দের ব্যাপারই বটে। কিন্তু সেটা আর আনন্দময় থাকে না বিদ্যালোভী অভিভাবক ও স্কুল কর্তৃপক্ষের কারণে। তারা সকল শিশুকেই ‘আইনস্টাইন’ বানাতে চায়। ফলে বিদ্যাশিক্ষা শিশুর স্বভাব ধ্বংসকারী বোঝা হয়ে ওঠে। স্কুলব্যাগের বোঝাকে কেবল শারীরিক ক্লেশ দিয়ে বুঝালেই চলবে না। ওজনদার পাঠ্যবইয়ের বোঝা কেবল বহন করা নয়, পড়তেও হয়; বাড়িতে ফিরে ঘাড়মুখ গুঁজে একগাদা হোমওয়ার্কও করতে হয়। অর্থাত্, শুষ্কজ্ঞানের বোঝাও তাদের বয়ে চলতে হয়। ফলে জগিবিচ্ছিন্ন কলুর বলদের মতো তারা শারীরিক ও মানসিক উভয়বিধ যন্ত্রণাতেই কাতর হতে থাকে। পরিণতিতে, বড় হয়েও তারা বহির্জগতে একা চলতে অক্ষম থেকে যায়। এরূপ কৃত্রিম জ্ঞানবিদ্যাচর্চা নিয়ে সারাবিশ্বে সমালোচনা চলছে। ইউরোপে আজকাল কৃত্রিম স্কুলের বিপরীতে প্রাকৃতিক স্কুল ধারণা ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। আশার কথা হলো, বইয়ের বোঝা কমাতে সরকার নানাআইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে চললেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। ঠিক “কাজীর গরু কাগজে আছে গোয়ালে নেই” এর মতো অবস্থা।অর্থ...

বাস্তবিকতা ও নজরুল

লিখেছেন: ক খ গ বৃত্তবন্দী আমাদের পাড়ার নজরুল নয়, কাজী নজরুল ইসলাম। আজকাল তার লিখার প্রতি খুব আগ্রহ জন্মাচ্ছে কেন জানিনা। তিনি যে কতটা বাস্তবমুখী তার প্রমাণ আর বলা বাহুল্য। আমাদের চারপাশ, আমদের দেশ, আমাদের সমাজ কতটুকু বদলালো, কতটুকু সামনে অগ্রসর হলো তাহার প্রতি তীক্ষ্ণ নজরদারি করিলেই ইহার চাক্ষুষ প্রমান পাওয়া যাবে। আমরা আজও তালাকের ফতোয়া খুঁজি কোরান হাদিস চষে। কাঠমোল্লাদের অঙ্গুলী নির্দেশে আজো হাজারো সন্ত্রাসবাদ, সবই ধর্মগ্রন্থের মিথ্যা বাহানা মাত্র। ধর্মগ্রন্থ নিয়ে নজরুল লিখেছেন- পূজিছে গ্রন্থ ভন্ডের দল মূর্খরা সব শোন/ মানুষ এনেছে গ্রন্থ, গ্রন্থ আনেনি মানুষ কোন। যে গ্রন্থ মানুষের রচিত সেই ধর্মগ্রন্থের সমালোচনা করলে আজও আমাদের কণ্ঠ রোধ করে দিতে, হাতের কলম কেড়ে নিতে ধেয়ে আসে মূর্খ ধার্মিকেরা। আজও দেশের কবি সাহিত্যিকেরা হয় খুন, হয় নির্বাসিত। যে দিন থেকে ধর্মগ্রন্থ দুনিয়ায় এসেছে, সে দিন থেকে জগতের মানুষ তার মনুষ্যত্ব পরিচয় ভুলে গিয়ে বিভক্ত হয়ে গেছে বহু ধারায়, বহু জাতিতে বহু পরিচয়ে। ধর্মগ্রন্থ মানুষের কাছে মানুষকে কীভাবে পরিচয় করিয়ে দেয় নজরুল বলছেন- ‘একদিন গুরুদে...